Tuesday, March 21, 2023

নাক ডাকার কারণসমূহ ও প্রতিকার


 নাক ডাকার কারণসমূহ ও প্রতিকার

নাক-ডাকার-কারণ-ও-বন্ধের-উপায় বেশ কিছু  ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত হতে পারে নাক ডাকা থেকে। 

যদি দৈনিক পর্যাপ্ত ঘুম না হয়ে থাকে, তাহলে নাক ডাকা বাড়তে পারে কিংবা শুরুও হতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি শরীরের পেশিগুলোকে অলস করে দেয়, যা নাক ডাকার অন্যতম কারণ।

নাক ডাকার প্রবণতা থাকলে মস্তিষ্কের সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। আইকিউও কমে, সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তিও লোপ পেতে পারে।

অনেকেই ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার প্রবনতায় ভোগেন।এতে পাশের মানুষের ঘুম নষ্ট হতে পারে।

বেশ কিছু কারণে মানুষ নাক ডাকতে পারে-

**শরীরের বাড়তি ওজন, গর্ভাবস্থা ও কিছুটা বংশগত কারণ।

**অ্যালার্জি, নাক বন্ধ হওয়া অথবা নাকের ভিন্ন গঠন। এসব কারণে নাকের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে না ও নাক ডাকা শুরু হয়।

**মদ্যপান, ধূমপান ও বিশেষ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নাক ডাকা আরম্ভ হতে পারে ।

**বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীরে চামড়া ঝুলে যায়, পুরু হয় ও গলার কিছু পেশি ফুলে যায়। এ কারণে বয়স্করা নাক ডাকেন তুলনামূলক বেশি।

নাক ডাকা থেকে মুক্তির উপায়-

পরামর্শ-

*অতিরিক্ত ওজন কমানো-

শরীরের অতিরিক্ত ওজন নাক ডাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বাড়তি ওজন নাকের ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গা সংকীর্ণ করে দেয়। শ্বাস-প্রশ্বাস চলাচলের সময় শব্দের সৃষ্টি হয়। তাই ওজন কমালে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি মেলা সম্ভব।

*শোয়ার অবস্থান সঠিক করা-

শোয়ার অবস্থানের কারণে কেউ কেউ নাক ডেকে থাকতে পারেন।

সোজা ও চিৎ হয়ে শোয়ার কারণে জিহ্বা ও নরম তালু পেছনের দিকে হেলে যায়। এ কারণে মুখের ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গাটা আটকে যায় ও শব্দের সৃষ্টি হতে পারে। ডান কাতে শোয়া এ ক্ষেত্রে খুবই ভালো একটি সমাধান। বাম কাতে শোয়ার জন্য বুকের ওপর বেশি চাপ পড়তে পারে।

*অ্যালকোহল ছেড়ে দেয়া-

অ্যালকোহল গ্রহণ শুধু নাক ডাকা নয়, শরীরের বিভিন্ন সমস্যার জন্য দায়ী। এটি বিভিন্ন পেশিকে অনেক বেশি শিথিল করে দেয়। ফলে শিথিল মাংস পেশিগুলো মুখের ভেতরে জায়গা আটকে দেয়। তাই যারা মদ্যপান ছাড়তে পারছেন না, তারা নাক ডাকার হাত থেকে রেহাই পেতে সচেষ্ট হোন।

*পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন-

আপনার যদি দৈনিক পর্যাপ্ত ঘুম না হয়ে থাকে, তাহলে নাক ডাকা হতে পারে কিংবা শুরু হতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি শরীরের পেশিগুলোকে অলস করে দেয়, যা নাক ডাকার অন্যতম কারণ।

*নাক পরিষ্কার করা-

নাক বন্ধ থাকার জন্যও নাক ডাকার সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্যই অনেকে যারা কখনোই নাক ডাকেন না, তারাও নাক ডাকছেন বলে ঘরের লোকজন জানান। ঠান্ডাজনিত কারণে আপনার নাক বন্ধ হয়ে থাকলে শোয়ার আগে গরম পানির ভাপ নিয়ে যথাসম্ভব নাক পরিষ্কার করুন।

*ধূমপান ছেড়ে দিন-

সিগারেটের ধোঁয়া নাকের ভেতর ও গলার মেমব্রেন টিস্যুর ক্ষতি করে। তাই ধূমপান এড়িয়ে যান।

*বালিশের ভারসাম্য-

ঘুমানোর সময় একটি বাড়তি বালিশ নিয়ে মাথাটা একটু উঁচু জায়গায় রেখে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। মাথা উঁচু থাকলে এই সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়, তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শুধু মাথা ও বুকের দিকটাতেও যেন সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

*মেডিটেশন প্রয়োজন-

মেডিটেশন হলো শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যার অন্যতম সমাধান। এর মাধ্যমে আপনার অজানা অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে। হয়তো এর মাধ্যমে নাক ডাকা থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।

*প্রাকৃতিক উপাদান-

এ ছাড়া প্রাকৃতিক কিছু উপাদান যেমন এলাচ, হলুদ, মধু, ঘি এবং অলিভ অয়েল এগুলো ভেষজ হিসাবে খেলে নাক ডাকা ও শরীরের অনেক সমস্যার সমাধান মিলতে পারে,  এগুলো কী পরিমাণে খাবেন বা খাবেন কি না, তদবিষয়ে  বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে নিন।

নাক ডাকা খুব দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

ভেষজ বাড়ি


No comments:

Post a Comment