Saturday, March 18, 2023

থানকুনি পাতার গুণাগুণ-

 

সুস্থ থাকার জন্য আধুনিক ওষুধ ও চিকিৎসার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে চেষ্টা করুন প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ থাকতে। অনেক ভেষজ আছে যা বিভিন্নভাবে আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তম্মধ্যে একটি থানকুনি পাতা। হালকা তেতো স্বাদের এই পাতাকে ইংরেজিতে বলা হয় ইন্ডিয়ান পেনিওয়ার্ট। 

থানকুনি একটি বহুবর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ। পুকুর এবং জলাভূমির আশেপাশে পাওয়া যায়। এটি ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পূর্ব ইউরোপেও জন্মে। থানকুনি ব্যবহার করা যায় খাদ্য এবং ওষুধ হিসেবেই।  শেকড় সহ এর পুরো অংশই খাওয়া যায়। ভর্তা, ভাজি, বড়া তৈরির পাশাপাশি এই পাতা দিয়ে চাটনি, সালাদ এবং পানীয়ও তৈরি করা যায়।


গুণাগুণ-

**আলসার এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ-

থানকুনির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পেট এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ দূর করতে সহায়তা করে। প্রথমে পরিষ্কার ও তাজা থানকুনি পাতা সেদ্ধ করে তারপর সেই পানি একটি গ্লাসে ছেঁকে নিয়ে তার সঙ্গে যোগ করুন   কিছু মধু। পেটের আলসার এবং মূত্রনালীর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন সকালে এই পানীয় পান করতে পারেন।

**হজমের সমস্যা-

তাজা থানকুনি পাতা এক চিমটি লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে নিয়মিত পান করুন। কারণ হজমশক্তি ভালো করার জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য থানকুনি পাতার এই পানীয় খুব উপকারী।

**পেট এবং লিভার-

যারা পেটের সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন সকালে একটি পাকা কলার সঙ্গে কিছু থানকুনি পাতা মিলিয়ে খেতে পারেন। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। এভাবে নিয়মিত খেলে আপনার পেটের স্বাস্থ্য এবং লিভার দুটোই ভালো থাকবে।

**ক্ষত-

ক্ষত দ্রুত নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করতে পারেন থানকুনি পাতা। এতে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্য যা খুব তাড়াতাড়ি ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। ক্ষত নিরাময়ের গতি ত্বরান্বিত করতে এবং ত্বকের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য শুকনো থানকুনির গুঁড়া দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে ক্ষতস্থানে প্রলেপ  দিন।

**আর্থ্রাইটিস-

আর্থ্রাইটিস বা বাতের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য উপকারী হতে পারে থানকুনি পাতা। এটি প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে। বাতের চিকিৎসার অংশ হিসেবে চিকিৎসকরা নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রতিদিন অন্তত দুটি থানকুনি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে বাতের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারেন। 

**কাশি এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা-

মধুর সঙ্গে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে তা সহজেই কাশি এবং শ্বাসযন্ত্রের অসুখ সারাতে সাহায্য করে। তুলসি ও গোল মরিচ দিয়ে থানকুনি পাতা খেলে তা ঠান্ডা এবং জ্বরও নিরাময় হয়। গলা ব্যথা এবং কাশি নিরাময়ের জন্য, থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে সামান্য চিনি মিশিয়ে পান করতে পারেন। এক সপ্তাহ খেলেই উপকার বুঝবেন।


**কোষ্ঠকাঠিন্য-

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে থানকুনি পাতা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনি খাবারের তালিকায় থানকুনি পাতা রাখেন তবে আর কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগতে হবে না।


**রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য খুব কার্যকরী থানকুনি।মহামারির সময়ে আরও থানকুনি বেশ জরুরি। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি শিশুদেরকেও খাওয়ানো উপকারী। 

**অনিদ্রা-

অনিদ্রার সমস্যা মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেকটাই অসুস্থ করে। তাই সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ঘুম জরুরি। অনিদ্রার সমস্যায় খেতে পারেন থানকুনি পাতা। প্রতিদিন দুইবার ২-৪ চামচ থানকুনির রস ও মধু মিশিয়ে খেলে ফল পাবেন। অনিদ্রার সমস্যা কমবে শীঘ্রই।

**চুল পড়া-

চুল যদি মাত্রাতিরিক্ত পড়তে থাকে তখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়। এখানে সাহায্য করতে পারে থানকুনি পাতা। প্রতিদিন সকালে ১চা চামচ শুকনো থানকুনির গুঁড়া দিয়ে পেস্ট তৈরি করে  মাথায় ব্যবহার করলে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।

ভেষজ বাড়ি


No comments:

Post a Comment