Thursday, March 30, 2023

কারিপাতা: প্রকৃতির বিস্ময়! অসাধারণ উপকারিতা-

 কারিপাতা: প্রকৃতির বিস্ময়! অসাধারণ উপকারিতা-


শুকনা কারিপাতা ও গুড়া পাওয়া যায়। যা বাজারের পণ্য নয়, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ঘরে প্রসেসকৃত।


অনেকেই খাবারে মসলা হিসেবে কারি পাতা ব্যবহার করেন। নিম পাতার মতো দেখতে এ পাতা মিষ্টি নিম কিংবা বারসুঙ্গা নামেও পরিচিত। এর পাতা ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক ধরনের রান্নায় ব্যবহার করা হয়। প্রায়শই ঝোল জাতীয় রান্নায় ব্যবহার করা হয় বলে সাধারণত একে 'কারি পাতা' বলা হয়।


কারি পাতা শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, প্রোটিন, আয়রন, ফলিক এসিড, ভিটামিন সি, বি, এ, ই। এসব কারণে এ পাতা ব্যবহার করে খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়ায় এবং এর মাধ্যমে রূপচর্চাতেও বহু উপকার পাওয়া যায়। চকচকে সবুজ কারি পাতা কোলেস্টেরল এবং রক্তের গ্লুকোজের মাত্রার পরিমাণ ঠিক রাখে। লিভারের জন্য কারি পাতা বেশ উপকারি।


কারি পাতার অনেক স্বাস্থ্যের উপকারিতা আছে। তাদের কিছু কিছু নিচে উল্লেখ করা হল-


**ওজন কমাতে-

খাবারে নিয়মিত কারিপাতার ব্যবহার ওজন কমাতে সাহায্য করে।


**ডায়রিয়া নিরাময়-

পেট ঠান্ডা রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে কারি পাতা। নিয়মিত কারি পাতা খাওয়া শুরু করলে পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে ডায়ারিয়ার প্রকোপ কমাতেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারিপাতাতে উপস্থিত কার্বেজল অ্যালকালয়েড নামক উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।


**মর্নিং সিকনেস-

মর্নিং সিকনেস এবং সর্দির হাত থেকেও কারি পাতা বাঁচায়। কারি পাতা খেলে বমিভাব কমে।


**দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়-

চোখের দৃষ্টিশক্তির জন্যও কারি পাতা খাওয়া খুব ভালো। কারি পাতায় উপস্থিত ভিটামিন এ-র প্রভাবে চোখের কর্নিয়া ভালো থাকে।


**স্বাস্থ্যকর চুল-

চুল পড়ার হাত থেকেও মুক্তি দেয় কারিপাতা। এতে উপস্থিত অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং ভিটামিন এ ও সি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। শুধু তাই নয় ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও কারি পাতার কোনও তুলনা হয় না।


**ক্ষত নিরাময় করে-

 কারিপাতায় আছে উপকারী অ্যালকালয়েড। যে কোনও আঘাত বা জখম অনায়াসে নির্মূল করতে সাহায্য করে এটি। কারি পাতা সেদ্ধ পানি চুলকানি, অল্প পোড়া, ইত্যাদি সারাতে ভালো কাজ দেয়। কারি পাতা বাটা খুব ভালো অ্যান্টিসেপ্টিকের কাজ করে।


**হার্ট ভালো রাখতে-

কারিপাতা ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারিতে পরিপূরণ থাকায় এটি হার্টের পক্ষে খুব উপকারী। নিয়মিত কারিপাতার রস খেলে হার্টের রোগ প্রতিরোধ সহজ হয়।


**অ্যানিমিয়া নিরাময়-

ফলিক এবং আয়রনে ভরপুর এই প্রকৃতিক উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর লোহিত রক্ত কনিকার মাত্রাক বাড়িয়ে দেয়। এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে একটা খেজুরের সঙ্গে ২ টো কারি পাতা খেলে উপকার পাওয়া যায়।


**ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে-

প্রতিদিন কারি পাতা খেলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক লেভেলের উপরে যাওয়ার সুযোগ পায় না। এখানেই শেষ নয়, কারি পাতায় উপস্থিত ফাইবারও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সংগৃহিত। ছবি গুগল।


পেজ: ভেষজ বাড়ি 


শো রুমঃ বনাজী ভেষজালয়।

ভেজালের বাজারে নির্ভেজাল পণ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টায়...

Herbs for healthy life

বাড়ী#২৮, রোড#৪, ব্লক#এফ, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা

০১৬২০১২০৮১৭


তরমুজের বীজে মেলে যত উপকার-

 

তরমুজের বীজে মেলে যত উপকার-
বাজার এখন সয়লাব তরমুজে। শরীরের পানিশূন্যতা দূর করার ক্ষেত্রে ফলটির তুলনাহীন। অনেকেই তরমুজ খাওয়ার সময় এর বীজ ফেলে দেন। ফলের মতো তরমুজের বীজেরও রয়েছে বহু পুষ্টিগুণ।

***তরমুজের বীজের পুষ্টিগুণ-
**খনিজের উত্স-
তরমুজের বীজ রোদে শুকিয়ে স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়।  তরমুজের বীজে থাকা ম্যাগনেশিয়াম রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। এই বীজে ফসফরাস, সোডিয়াম, কপার, জিঙ্কও থাকে।

**আমিষের উৎস-
প্রচুর পরিমাণ আমিষ থাকে তরমুজ বীজে। সারাদিনে যে পরিমাণ আমিষ প্রয়োজন তার ষাট শতাংশ মিলে এক কাপ তরমুজের বীজে। আর্গিনাইন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড পাবেন এই বীজে। উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া গ্লুটামিক অ্যাসিড, লাইসিন নামক উপাদান আছে। এগুলো শরীরের জন্য খুবই উপকারি।

**ভিটামিন বি এর উত্স-
দেহের জন্য ভিটামিন বি একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। যেকোনো খাবার পরিপাক করতে ভিটামিন বি কাজ করে। শরীরে শক্তি জোগায়। তরমুজের বীজে রয়েছে ভিটামিন বি।

**চুলের যত্নে তরমুজ বীজ-
চুলের জন্য খুবই কার্যকর তরমুজ বীজ।  প্রোটিন, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও কপারের মতো উপাদান সমৃদ্ধ। প্রোটিন চুলের বৃদ্ধি করে। ম্যাগনেসিয়াম চুলের আগা ফাটা ও ভেঙে পড়া রোধ করে। এ বীজ কপার মেলানিন উৎপাদন করে, যাতে চুল হয় রেশমি ও কোমল।

**পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ায়-
পুরুষূের প্রজনন ক্ষমতার জন্য জিংক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চীনা গবেষণা মতে, জিংক পুরুষদের শুক্রাণুর মান ভালোভাবে উন্নত করতে পারে। তরমুজ ফল, বীজ ম্যাঙ্গানিজের ভা


লো উৎস। ম্যাংগানিজে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করতে যথেষ্ট অবদান থাকে।

তাই তরমুজের বীজ ফেলে না দিয়ে খেয়ে ফেলুন।
সৌজন্যে: ভেষজ বাড়ি

Wednesday, March 29, 2023

হিমালয়ান পিংক সল্ট।

 হিমালয়ান পিংক সল্ট।


সাধারণ লবণের পরিবর্তে‌ হিমালয়ান পিংক সল্টকে খাদ্যতালিকায় রাখুন! মিলবে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা। যাকে বাংলায় সৈন্ধব লবণও বলা হয়ে থাকে।

পাওয়া যাচ্ছে আস্ত পিংক সল্ট বা সৈন্ধব লবণ।
  
হিমালয়ের পাদদেশের কাছে পাকিস্তানের অঞ্চলে এই লবণ পাওয়া যায়। এই লবণ কম পরিশোধিত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নেই। এটি একটি প্রাকৃতিক লবণ। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নগণ্য।

আমি মনজুর আহমেদ ঢাকা থেকে কাজ করছি দূষ্প্রাপ‍্য দেশি-বিদেশি ভেষজ, প্রাকৃতিক খাবার ও নিত‍্যপণ‍্য নিয়ে। সাথে থাকুন।

জল ও নুন- শরীরের ক্ষেত্রে ভীষণ উপকারী দুটো বস্তু। কিন্তু কাঁচা নুন বা সাদা নুন বেশি পরিমাণে খেতে বারণ করেন ডাক্তাররা। কারণ এতে ঝুঁকি থাকে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার। আবার শরীরে নুনের পরিমাণ কমে গেলে, সেখানেও অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এমন অবস্থা তাহলে কী করণীয়! সাধারণ নুনের বদলে বেছে নিন হিমালয়ান পিংক সল্ট।

হিমালয়ের পাদদেশের কাছে পাকিস্তানের অঞ্চলে এই লবণ পাওয়া যায়। এই লবণ কম পরিশোধিত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নেই। এটি একটি প্রাকৃতিক লবণ। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নগণ্য। এই লবণকে হিমালয়ান পিংক সল্টও বলা হয়। এই লবণ আপনার ত্বককে ভালো রাখতে এবং অনেক রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

এই লবণের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিযুক্ত উপাদান। হিমালয়ান পিংক সল্ট আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রেও ব্যবহার করা হয়। এই নুনের একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। কিন্তু এই নুনকে খাদ্যতালিকায় যুক্ত করার আগে এর স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলি সম্পর্কে জানা দরকার…

হিমালয়ান পিংক সল্টে চিনি, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ক্যালোরি, প্রোটিন এবং চর্বি থাকে না। এতে রয়েছে বিশুদ্ধ সোডিয়াম।

পটাসিয়াম – ২.৮ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম – ১.০৬ মিলিগ্রাম
আয়রন – ০.০৩৬৯ মিগ্রা
সোডিয়াম – ৩৬৮ মিলিগ্রাম

-হিমালয়া পিংক সল্ট এলডিএল অর্থাৎ খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। যদি আপনার কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যায় তবে আপনি হিমালয়া পিংক সল্ট খেতে পারেন। আপনি সাধারণ লবণের পরিবর্তে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

-ওজন কমাতে হিমালয়া পিংক সল্ট খাওয়া যেতে পারে। এর জন্য হালকা গরম জলে এই লবণ ও লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে।
এটি খেলে ওজন দ্রুত কমে যায়।

-হিমালয়া পিংক সল্ট ও লেবু খেলে মেটাবলিক রেট ভালো থাকে। এটি পরিপাকতন্ত্রকেও সুস্থ রাখে।

-এছাড়াও আপনি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমালয়া পিংক সল্ট খেতে পারেন। এটি রক্তচাপের ওপর দারুণ প্রভাব ফেলে।

-স্ট্রেস এবং বিষণ্নতা কমাতে হিমালয়া পিংক সল্টও খাওয়া যেতে পারে।

-হিমালয়া পিংক সল্ট শরীরের ব্যথা এবং হাড়ের ব্যথার জন্যও উপকারী।

-প্রতিদিন হিমালয়া পিংক সল্ট খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

-অ্যাজমা এবং আর্থ্রাইটিস রোগীদের সাধারণ লবণের পরিবর্তে এই লবণ খাওয়া উচিত। এটি একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধের মতো কাজ করে।

-এটি আপনার শরীরে জলের অভাব হতে দেয় না। এটি আপনাকে হাইড্রেটেড রাখে।

-এটি আপনার শক্তি বাড়ায়। কারণ এই লবণে রয়েছে শক্তি বৃদ্ধিকারী খনিজ উপাদান।

-এটি হার্টকেও সুস্থ রাখে। এটি হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়।


পেইজ ভেষজ বাড়ি

বনাজী ভেষজালয়।
ভেজালের বাজারে নির্ভেজাল পণ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টায়...
Herbs for healthy life
বাড়ী#২৮, রোড#৪, ব্লক#এফ, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা
০১৬২০১২০৮১৭


হিং গুণাগুণ, ব্যবহার ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া -

 


হিং গুণাগুণ, ব্যবহার ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া -

ইন্ডিয়ান হিং ইনটেক প্যাক ও কৌটায় পাওয়া যায়।

Asafoetida,  যা হিং নামে পরিচিত, হল ফেরুলা আসাফাটিডা নামক গাছড়া এবং তার ভিন্ন ধরণের প্রজাতির শিকড় থেকে নিষ্কাশিত হওয়া এক ধরণের আঠা জাতীয় বস্তু। এই গাছটি প্রধানত পাওয়া যায় পূর্ব এবং মধ্য এশিয়ার ভূমধ্য অঞ্চলে। হিং গণ্য করা হয় তার ঔষধিগুণের জন্য। বিশেষত হজমের জন্য।

আয়ুর্বেদে আসাফাটিডা একটি রেচক (হজমে সাহায্য করে) হিসেবে বর্ণিত এবং একটি বায়ুপ্রকোপকারী (গ্যাস বের করে দিতে সাহায্য করে এবং স্থুলতা কমায়)।

১৭০ ধরণের ফেরুলা হয়, যার মধ্যে তিনটি ধরণ ভারতে ফলানো হয়, প্রধানত কাশ্মীর এবং পাঞ্জাব রাজ্যে। এটি আপিয়াসি পরিবারের সদস্য এবং এটি হল একটি গাছ যা বহুবর্ষজীবি (দু’বছরের বেশি বেঁচে থাকে) এবং সাধারণত ৪মিটার উচ্চতায় গজায়। গাছের কাণ্ডটি হয় ফাঁপা এবং সরস (জল ধরে রাখে) । ফুলগুলি সাধারণত হলুদ রঙের হয়। শিকড় এবং মৌলকাণ্ড হল এই গাছের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ যেখান থেকে ‘ওলেওরেসিন’ নামক আঠা সংগ্রহ করা হয়। এই আঠা শুকিয়ে আসাফাটিডা বা হিং তৈরি করা হয়।  


হিং ইতিহাস ফিরে যায় রোমান সাম্রাজ্যে। আজও হিং ব্যপকভাবে ব্যবহার করা হয় ঝোল এবং আচারকে সুস্বাদু করার প্রতিনিধি হিসেবে। হিং থেকে উদ্ভুত উপকারিতা একে আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে অন্যতম উপকরণ বানায়। আসুন দেখে নেওয়া যাক হিং কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা।

হজম উন্নত করেঃ হিং আয়ুর্বেদিক ওষুধে ব্যবহার করা হয় এর হজমের উপকারিতার জন্য। এর একটি পুনঃস্থাপন করার প্রভাব রয়েছে পাকস্থলীর pH-এর ওপর এবং এটি হজমকারী রসের ক্রিয়া উন্নত করে। এটি পাকস্থলীর গ্যাস এবং স্থুলতাও কমায়।
স্মৃতিশক্তি উন্নত করেঃ হিং একটি দুর্দান্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেটি আসিটিলকোলিনের ভাঙন আটকায়। আসিটিলকোলিন হল একটি রাসায়নিক যেটি মস্তিষ্কের সংকেত আদানপ্রদানের জন্য দায়ী। এটি স্মৃতি সংরক্ষিত রাখে এবং চেতনা (শেখার ক্ষমতা) উন্নত করে।
ওজন কমায়ঃ হিং চর্বির জমাট বাঁধা কমিয়ে ওজন কমানো উন্নীত করে। এটি হজম এবং পরিপাক উন্নত করে যার ফলে অতিরিক্ত ওজন কমে তাড়াতাড়ি।
রক্তচাপ কমায়ঃ ক্লিনিকাল গবেষণা প্রস্তাবিত করে যে হিং উচ্চ রক্তচাপ সম্পন্ন ব্যক্তিদের রক্তচাপ কমানোয় কার্যকর। এটি প্রধানত যুক্ত করা যায় এর ভ্যাসোরিলাক্সান্ট বৈশিষ্ট্যের (রক্তনালী শিথিল করে) জন্য যেটি হিং সক্রিয় উপাদানগুলিতে পাওয়া যায়।
বৃক্কের ক্রিয়া উন্নত করেঃ প্রথাগত চিকিৎসায় হিং পরিচিত মূত্রবর্ধক হিসেবে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হওয়ার দরুন, এটি বৃক্কের ক্ষয় আটকায় এবং বৃক্কের কার্যকারিতা উন্নীত করে।
প্রাকৃতিক জীবাণু-বিরোধীঃ হিং একটি শক্তিশালী জীবাণু-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন সংক্রমণ আটকাতে। হিং অপরিহার্য তেলকে সবচেয়ে সাধারন প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের বৃদ্ধি আটকাতে দেখা গেছে। এটি আচার এবং কৃত্রিম খাবারে সংরক্ষকের কাজ করে।     

অন্যান্য ঔষধীয় গাছড়া সহযোগে হিং দিয়ে তৈরি করা মিশ্রণকে একটি ভাল যকৃৎ রক্ষাকারী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে দেখা যায়। একটি গবেষণায়, হিং জলীয় নির্যাস তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল যকৃতের সমস্যায় আক্রান্ত রুগীদের। দেখা যায় যে কিছু এঞ্জাইমের ক্রিয়া কমার ফলে যকৃতের পরিপাকের ক্রিয়া কমে। এর ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আরোগ্য লাভ হয়। এই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায় যে যকৃতে বিষাক্তভাব ছড়িয়ে দেওয়া কার্বন টেট্রাক্লোরাইডের ক্রিয়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায় নির্ধারিত ডোজে হিং ব্যবহার করার ফলে।

আসাফাটিডাতে স্থুলতা-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের সম্ভাব্যতা পাওয়া গেছে। হিং নির্ধারিত ডোজ ওজন কমানোয় অবদান রাখতে পারে শরীরের অস্বাভাবিক চর্বি এবং ওজন কমিয়ে। হিং উল্লেখযোগ্যভাবে হজমে সাহায্য করে এবং পরিপাক করার ক্রিয়া বর্ধিত করে। এই সকল কারণ ওজনে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। ডায়বিটিস-প্রবর্তিত স্থুলতাও হিং সেবন করে কমানো যেতে পারে।

**ক্যানসারের জন্য হিং-
হিং নির্যাসে টিউমার কমানোর বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে। একটি গবেষণা অনুযায়ী কারসিনোজেনের (প্রকৃতিতে থাকা ক্যানসার-সৃষ্টিকারী উপাদানগুলি) প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় আসাফাটিডা ব্যবহারের ফলে যার ফলে টিউমারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

আসাফাটিডার বর্ধিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওষুধ সচলকারী বৈশিষ্ট্য এটির কারসিনোজেন-বিরোধী ক্রিয়াতে অবদান রাখে। সেহেতু হিংকে একটি ক্যানসার-বিরোধী (ক্যানসার প্রতিরোধ করে) গাছড়া বলা যায়।

**ডায়বেটিসের জন্য হিং-
আসাফাটিডা থেকে গৃহীত নির্যাসে হাইপোগ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করাভাব কমায়।

হিং আঠার নির্যাসে ফেনলিক অ্যাসিড এবং ট্যানিনের মত যৌগের উপস্থিতি তার ডায়বিটিস-বিরোধী বৈশিষ্ট্যে অবদান যোগায়। হিং ডায়বিটিস নিয়ন্ত্রণ করার সম্ভাব্যতা নিয়ে গবেষণা চলছে এবং ইন ভিভোতে এখনো প্রতিষ্ঠিত হওয়া বাকি।

**রক্তচাপের জন্য হিং-
হিং একটি রক্তচাপ কমানোর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যখন এটি ডোজ-নির্ভর পদ্ধতিতে সেবন করা হয়। একটি গবেষণায়, আসাফাটিডার আঠার নির্যাসকে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করতে বা উচ্চ রক্তচাপে ভোগা রুগীদের রক্তচাপ কমাতে দেখা গেছে।

এই গাছড়ার একটি প্রধান উপাদান ফেরুলিক অ্যাসিডের রক্তচাপ কমানোর সামর্থ্য দেখা গেছে। এই অ্যাসিডটি নাইট্রোজেন অক্সাইডের লভ্যতা বাড়ায় যা রক্তকোষের দ্বারা নির্মিত একটি শিথিলকারী (রক্তনালীর উত্তেজনা কমায়) । এইভাবে, এটি রক্তচাপ কমায়। 

**শিথিলতার জন্য হিং-
গবেষণা প্রমাণ করে যে ফেরুলা আসাফাটিডা-র আঠার নির্যাসে শিথিলকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পেশীর সংকুচনের জন্য প্রায়ই হিং সুপারিশ করা হয়।

বিভিন্ন শিথিলকারী যৌগ আসাফাটিডার আঠার নির্যাসে রয়েছে যা মস্তিষ্ক কোষের নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল অংশের সাথে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং শিথিলতার অনুভুতি তৈরি করে। এইসব যৌগগুলি কোষে থাকা ক্যালসিয়াম আয়নকে গতিশীলতা প্রদান করে যা পেশীর কোষের সংকুচনে সাহায্য করে।

**স্মৃতিশক্তির জন্য হিং-
হিং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে স্মৃতিশক্তি এবং শেখার ক্ষমতা বাড়ায় বলে পরিচিত। আসাফাটিডা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যাসিটিলকোলিনেসটেরেস এনজাইমের ক্রিয়া থামিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। এই এনজাইমটি দায়ী অ্যাসিটিলকোলিন স্নায়ুপ্রেরকের ভাঙনের জন্য দায়ী। এই রাসায়নিকটি স্নায়ুস্পন্দন আদানপ্রদান সম্ভব করে।

অ্যাসিটিলকোলিন স্মৃতির কোষের সঠিক ক্রিয়াকলাপের জন্য প্রয়োজনীয়। এইভাবে আসাফাটিডা মস্তিষ্কের স্মৃতির সম্ভাব্যতা বাড়ায় স্নায়ুপ্রেরক অক্ষত রেখে। গবেষণা প্রমাণ করে যে হিং ব্যবহার স্মৃতিভ্রংশ-বিরোধী চিকিৎসায় উপকারী প্রমাণ হতে পারে।

**বৃক্কের জন্য হিং-
প্রথাগতভাবে, ইরানি চিকিৎসায় হিং ব্যবহৃত হয়ে আসছে মূত্রবর্ধক হিসেবে, অর্থাৎ এটি প্রস্রাব বৃদ্ধি করে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে হিং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রস্রাবের পরিমাণ এবং প্রস্রাবে সোডিয়াম এবং পটাসিয়ামের শতকরা পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ফ্লাভোনয়েড এবং আসাফাটিডার আঠায় থাকা অন্যান্য জৈব যৌগের মূত্রবর্ধক হিসেবে অবদান রয়েছে।  

**হৃদয়ের জন্য হিং-
হিঙে থাকা ফ্লাভোনয়েডের মত যৌগগুলির নির্যাস দায়ী এর জারক-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দায়ী রক্তধারায় থাকা ফ্রি র‍্যাডিকালকে নিষ্ক্রিয় করতে। ফ্রি র‍্যাডিকাল চারিত্রিকভাবে হল খুবই প্রতিক্রিয়াশীল এবং এটি অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির ক্ষতি করতে পারে। অক্সিডেটিভ চাপের আবহে ফ্লাভোনয়েড হৃদয়কে রক্ষা করে। ফ্লাভোনয়েডের অবদান রয়েছে বিভিন্ন জৈবিক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যা স্ট্রোক এবং করোনারি হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

**খাবার সংরক্ষণের জন্য হিং-
হিং জীবাণু-বিরোধী বৈশিষ্ট্য খাবার সংরক্ষণের জন্যেও নিজুক্ত করা যায়। হিং থেকে নিষ্কাশিত কিছু অপরিহার্য তেল প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে। এবং এইভাবে যখন হিং খাবারে যোগ করা হয়, সেটি অক্সিডাইস হওয়া আটকে সংরক্ষক হিসেবে কাজ করে।

উপরন্তু, হিং অনাবশ্যক ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের ফলন আটকায়। এই বৈশিষ্ট্যটি একে আচার এবং বাক্সবন্দি খাবারের সবচেয়ে অনুকুল সংরক্ষক বানায়। হিং চর্বিযুক্ত খাবারে অক্সিডেটিভ স্থায়িত্ব দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং খাদ্য শিল্পে এটি একটি ভাল জীবাণু-বিরোধী প্রতিনিধির উৎস। 

**জীবাণু-বিরোধী হিসেবে হিং-
জীবাণু-বিরোধী হিসেবে হিং উপকারিতা সুপরিচিত। ভেষজ ওষুধে হিং ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের বিরুদ্ধে চিকিৎসার জন্য। ফেরুলা আসাফাটিডা-র আঠা থেকে গৃহীত অপরিহার্য তেলে বেসিলাস সাবটিলিস, এশেরিশিয়া কোলি, স্ট্যাফাইলোকোকাস অরেয়াস, অ্যাসপারগিলাস নাইজার এবং পিউডোডোমাস অ্যারুগিনোসা-র মত বিবিধ ধরণের প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে জীবাণু-বিরোধী প্রভাব দেখা যায়। সেহেতু হিং সুপারিশ করা হয় ঔষধি এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যে জীবাণু থেকে হওয়া সংক্রমণের ক্ষেত্রে।

**অম্লনাশক হিসেবে হিং-
গবেষণায় পাওয়া গেছে যে হিং সেবন লালা এবং গ্যাস্ট্রিক রসের প্রবাহ বৃদ্ধি করে। হিং এনজাইমের কার্যকলাপে অনুঘটন করে পাকস্থলীর অম্লতা কমায়। এর ফলে স্থুলতা কমে এবং গ্যাস বেড়িয়ে যায়। হিং সেবন অগ্ন্যাশয়ের রসের প্রবাহ বাড়িয়ে তোলে যার অবদান রয়েছে হজমের প্রক্রিয়ায়।

গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সমস্যায় আক্রান্ত রুগীদের নির্ধারিত পরিমাণে হিং সেবন করতে সুপারিশ করা হয় তাদের অম্বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল আলসার হওয়াও আটকানো যায় হিং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে।   

**হজমের জন্য হিং-
হিং প্রধান উপকারিতা হল যে এটি হজমের প্রক্রিয়াতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদিক পুঁথি ‘চারক সংহিতা’-তে হিং উল্লেখ রয়েছে একটি গাছড়া হিসেবে যেটি হজম উন্নত করে। হিং বিভিন্ন চূর্ণয় (আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত শক্তিশালী গাছড়ার মিশ্রণ) একটি প্রধান উপকরণ, বিশেষত সেগুলি যা হজম উন্নত করে।

হিং পাকস্থলীর বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এবং pH (অ্যাসিডের ভারসাম্য) পুনরুদ্ধার করে যেটি হজম নিয়ন্ত্রণ করতে এবং হজমকারী রসের ক্রিয়া মসৃণ করে। গবেষণাতে পাওয়া গেছে রোজকার খাদ্যাভ্যাসে নির্ধারিত পরিমাণ হিং সংযোজন করলে বিরক্তিজনক পেটের সমস্যা (কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, পেটের সঙ্কুচন) হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

*হিংয়ের ব্যবহার-
হিং সবচেয়ে সহজলভ্য পাউডারের আকারে পাওয়া যায়। হিং ঔষধিয় ডোজ যেটি সাধারণত সুপারিশ করা হয় তা হল প্রায় ১২৫-৫০০মিলিগ্রাম। যদিও সঠিক ডোজ একজন ব্যক্তির ওজন, বয়স এবং দেহতত্ত্ব অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। সেহেতু ঔষধিয় কারণে হিংয়ের ব্যবহারের আগে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

*হিং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া -
আসাফাটিডা সাধারণত নিরাপদ যখন এর পরিমাণ খাওয়ার ব্যবহৃত অংশের সমান হয়। যদিও হিং ঔষধিয় ব্যবহার কিছু লোকের মধ্যে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। হিং ব্যবহারের কারণে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে তা নিম্নে দেয়া  হলো।

হিং বেশি সেবনের কারণে কিছু লোকের ঠোঁটে ফোলাভাব হতে পারে। এই অবস্থা সাধারণত বেশিক্ষণ স্থায়ী থাকেনা এবং কিছুক্ষণ পরেই অদৃশ্য হয়ে যায়।এই অবস্থা যদি স্থায়ী হয়, তাহলে শীঘ্রই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

যদিও হিং ব্যবহৃত হয় একটি বায়ুপ্রকোপকারী। (গ্যাস বের করে দেয়), কোন কোন ক্ষেত্রে খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে হিং ব্যবহারের ফলে তাদের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং একটি জ্বালার ভাবের সাথে বমিভাব তৈরি হতে পারে। সেহেতু যাতে ভারি পরিমাণে হিং রয়েছে, তা খাওয়ার আগে হালকা খাবার খেয়ে নেওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়।
হিংয়ের আরেকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল এটির সেবনের ফলে কিছু লোকের ত্বকে লাল ফুসকুড়ি এবং ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। যদি ফোলাভাব স্থায়ী হয়, তৎক্ষণাৎ আপনার কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

হিংয়ের অতিরিক্ত সেবনের ফলে কখনো কিছু লোকের মধ্যে ঝিমুনি বা মাথা ব্যথা অনুভুত হতে পারে।
হিং প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ কমানোর এবং রক্ত পাতলা করে। এই প্রভাবের কারণে রক্তের এবং সেই সম্পর্কিত সমস্যায় আক্রান্ত রুগীদের রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের জন্য যারা ওষুধ খাচ্ছেন, তারা হিং সেবন করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে অবশ্যই পরামর্শ করে নেওয়া উচিৎ কারণ হিং ওষুধের সাথে এটিকে প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে দেখা গেছে।

গর্ভবতী মহিলাদের তাদের খাদ্যাভ্যাসে হিং না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় কারণ এর ফলে গর্ভপাত হতে পারে। সন্তানপ্রসবা মায়েদের হিং এড়িয়ে চলা উচিৎ কারণ এটি মায়ের বুকের দুধ মারফৎ বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করে এবং রক্ত-সংক্রান্ত সমস্যা দাড় করে।

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত বা খিঁচ ধরা সংক্রান্ত সমস্যার ভুক্তভুগি বা পক্ষাঘাতের রুগীদের হিং এড়িয়ে চলা উচিৎ। যদি সেবন করা হয়, তাহলে এই সকল রুগীদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ফেসবুক পেজ ভেষজ বাড়ি
ওয়াট্সএপ গ্রুপ
ভেষজ বাড়ি ০১৬২০১২০৮১৭

চেম্বার: বনাজী ভেষজালয়।
ভেজালের বাজারে নির্ভেজাল পণ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টায়...
Herbs for healthy life
বাড়ী#২৮, রোড#৪, ব্লক#এফ, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা


Tuesday, March 28, 2023

প্রতিদিন খেজুর খান, দেখুন কি কি উপকার মেলে।

 

প্রতিদিন খেজুর খান, দেখুন কি কি উপকার মেলে।

খেজুরে আছে ভিটামিন, আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক এর পুস্টিগুণ।

খেজুর মানুষের শরীরের আয়রনের চাহিদার কিছু অংশ  পূরণ করে। তাই নিয়মিত খেজুর খেতে পারেন ।

পুস্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের বেশি অংশ খেজুর থেকে আসে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস থাকলে শুকনো খেজুরকে ডায়েটে রাখতে বলেন বিশেষজ্ঞগণ।

পুষ্টিগুণসমূহ-
সুস্বাদু আর বেশ পরিচিত এই ফল, যা ফ্রুকটোজ ও গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ। রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। খেজুর ফলকে চিনির বিকল্প হিসেবে ধরা যায়। খেজুরের পুষ্টি উপাদান হলো চারটি বা ত্রিশ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে নব্বই ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, তের মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম, দুই দশমিক আট গ্রাম ফাইবার এবং আরও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান। খেজুর শক্তির জন্য একটি ভালো উপাদান। তাই খেজুর খাওয়ার পর পরই শরীরের ক্লান্তিভাব কমে যায়। প্রচুর ভিটামিন বি, যা ভিটামিন বিসিক্স থাকাতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

রোজকার খাদ্যতালিকায় রাখুন খেজুর।
আয়রনে ভরপুর খেজুর খাবেন প্রতিদিন। অন্তত দুটি খেজুর যদি প্রতিদিন খান তবে অনেক রোগ কাছেও আসবে না। 
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের সকলই রয়েছে এতে।

খেজুরের উপকারিতা কি-
**খেজুরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম। খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

** এতে ফাইবারও মিলবে। তাই এই ফল পাতে রাখতে পারেন।

** একেকটি খেজুরে রয়েছে বিশ থেকে পচিঁশ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে পারে।

** রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত খেজুর খেতে পারেন। 

** চিনির বিকল্প খেজুর রাখতে পারেন।

** কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য রাতে খেজুর পানিতে ভিজিয়ে সকালে ঐ পানি পান করতে পারেন। কমে আসবে কোষ্ঠকাঠিন্য।

** এতে থাকা নানান খনিজ উপাদান হৃদস্পন্দনের হার সঠিক রাখতে সহায়তা করে।

** খেজুরে আছে লিউটেন ও জিক্সাথিন যা রেটিনা ভালো রাখতে পারে।
সৌজন্যে: ভেষজ বাড়ি


আখের গুড়ের যত গুণ!

 


আখের গুড়ের যত গুণ!



পাবেন নওগাঁর ফিটকিরি, ময়দা, কালার, ফ্লেভার ও ক্যামিকেল বিহীন ফ্রেশ আখের গুড়।

শুধু মজাদার পিঠে-পুলি, পায়েস বা মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরির জন্য নয়, আখের গুড়ের রয়েছে অনেক অনেক উপকারিতা। এটি রোগ-প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীর সুস্থ রাখে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত বার মাস দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে আখের গুড়।
আরো রয়েছে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা। চলুন জেনে নিন।আখের গুড়ের উপকারিতা সমূহ:
**আখের গুড় শরীরে তাপ উৎপাদন করে এবং দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। 
**রয়েছে উচ্চমানের ক্যালোরিফিক যা শরীর উষ্ণ রাখে এবং শারিরীক শক্তি যোগায়।
**ক্ষতিকর অনুজীব বৃদ্ধি ও হ্রাস করে।
**আখের গুড়ে থাকে  অনেক খনিজ উপাদান। যেমন- লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, সেলেনিয়াম ও পটাশিয়াম। এই উপাদানগুলো রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সংক্রমণ দূরে রাখতে সাহায্য করে।
**গলায় সমস্যা- কফ, গলাব্যথা, ফোলা বা খুসখুসে কাশি দূর করতে সাহায্য করে।
**শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা যেমন- বুকে কফ জমাট বাঁধা, রক্ত প্রবাহে সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
**নিয়মিত খেলে রক্ত পরিষ্কার করে।
**আখের গুড় রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়।
**পাকস্থলী, অন্ত্র, ফুসফুস ও খাদ্যনালী সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

**শীতের শুষ্ক, ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় জীবাণুর হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করতে এ গুড় অত্যন্ত কার্যকর।
** গুড়ে বিদ্যমান পটাশিয়াম, সোডিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
**খাওয়ার পর এক চামচ আখের গুড় খান, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে মুক্তি মিলবে ইনশাআল্লাহ।
**ঠাণ্ডা লাগা কিংবা সর্দিতে কুসুম গরম পানিতে এটি মিশিয়ে খেলে সর্দি-কাশি ভালো হয়।
আখের গুড়ে রয়েছে এলার্জি বিরোধী উপাদান যা দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। হাঁপানি থাকলে  নিয়ন্ত্রিত হয়।
**গরমকালে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে এ গুড়ের শরবতের বিকল্প নেই।
**এ গুড় খেলে এনার্জি পাবেন চটজলদি।

**লিভার থেকে দূষিত পদার্থ বের করে সূস্হ রাখতে সাহায্য করে প্রকৃতিক এই খাবার।উপরোক্ত উপকারগুলো পেতে হলে অবশ্যই আখের খাঁটি গুড় খেতে হবে। কারণ, বাজার ভেজাল গুড়ে সয়লাব। তাই দেখেশুনে তা কিনুন।

ফেসবুক পেজ ভেষজ বাড়ি
ওয়াট্সএপ গ্রুপ
ভেষজ বাড়ি ০১৬২০১২০৮১৭

চেম্বার: বনাজী ভেষজালয়।
ভেজালের বাজারে নির্ভেজাল পণ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টায়...
Herbs for healthy life
বাড়ী#২৮, রোড#৪, ব্লক#এফ, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা


Sunday, March 26, 2023

সাফল্যের চাবিকাঠি।

 



সাফল্যের হিসেব শিখুন ত্রিশ বছর বয়সের পূর্বেই।

জীবনে সাফল্য অর্জন করতে সবাই চায়। এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথটা মোটেও সহজ কিন্তু নয়। এই পথের জীবনযাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপেই আছে বাধার পর বাধা। তাই সাফল্য আশা করলেও তা অর্জন করা খুব সহজ নয়।

মানুষের জীবনে যতগুলো স্তর অতিক্রম করতে হয় তার মধ্যে সবচেয়ে স্বর্ণালী অধ্যায় হচ্ছে শৈশব আর কৈশোর । পনেরো থেকে ত্রিশ বছর বয়েসের এ বাঁকটি জীবনকে অনেক নতুনত্ব দেয়। এটি এমন একটি সময় যে বয়সে জীবনে আসে নানা বাধা-বিপত্তি, নানান প্রতিকূলতা। এ সময়  অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হয়। হার না মেনে সকল বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতা কীভাবে পার করতে হয় সেটার শিক্ষা এ বয়সেই শিখে। পরিপূর্ণ সফলতা আনতে শৈশবকাল থেকে অবশ্যই জীবনের একটি মজবুত ভিত্তি গঠন করতে হয়।  কি উপায় অবলম্বন করলে জীবন হয়ে উঠবে নক্ষত্রের মত ও সাফল্যময়।

&&নিজের কাজের দায়িত্ব  নিজের নেয়া-
নিজের কাজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয়। নিজের কাজে যদি কোন ভুল থাকে তবে তার জন্য অন্যকে দোষ না দিয়ে নিজের দোষগুলো সংশোধন করতে হবে। আর এই ভুল পরবর্তী কাজের পরিকল্পনা সংশোধন করবে।

&& আপনি নিজের জন্য বিনিয়োগ করুন-
আপনার পড়াশোনা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য সকল কাজগুলো যথানিয়মে করার চেষ্টা করুন। কোন কাজ ফেলে রাখা ঠিক হবে না। প্রতিদিনই নতুন কিছু করুন।  সবসময় নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। নিজের প্রতি যত্নশীল হোন। জীবনকে এমনভাবে গড়ে তুলুন যেন যে কোন বাধা উতরাতে পারেন, সৃজনশীল কাজ করুন এবং নিজের দক্ষতা উপলব্ধি করুন।

&&অর্থের সঠিক ব্যবহার করতে শিখুন-
বয়ঃসন্ধিকালে অযথা টাকা অপচয় করা থেকে সরে দাড়ান। শিখুন কীভাবে টাকা সঞ্চয় করতে হবে এবং বিচক্ষনতার সাথে বিনিয়োগ করতে হবে শুরু থেকেই ভালো আর্থিক অভ্যাস গড়ে তুলুন।

&&সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা-
সবার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করুন। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশী সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখুন। আপনার যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ান। একই সঙ্গে সুস্থ জীবনযাপন করুন। শক্তিশালী যোগাযোগ দক্ষতা কার্যকরভাবে আপনার কর্মজীবন এবং আপনার উন্নয়নে অবদান রাখবে।

&&প্রতিকূলতার সাথে মানিয়ে নিন-
জীবন পরিবর্তনশীল। যে কোন প্রতিবন্ধকতায় জীবনকে মানিয়ে নিতে শিখুন। নতুন নতুন অভিজ্ঞতা গ্রহন করে নতুন নতুন কাজ করার সুযোগ তৈরি করে নিন।

&&আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন-
নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন। আপনার জীবনের উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কৈশোরকাল থেকেই ঠিক করার চেস্টা চালাতে হবে। আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কিছু করবেন না যা পরবর্তীকালে আপনাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করে তোলে।

&&কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিখুন-
আপনার এ জীবনে যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। ছোট ছোট জিনিসের প্রশংসা করুন। কাউকে হেয় করার চেস্টা করবেন না।

&&ক্ষমা করুন:
অন্যের প্রতি ক্ষোভ, হিংসা, বিদ্বেষ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। জীবনে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলুন এবং নেতিবাচকতা থেকে সরে দাড়ান।

&&সত্যবাদী হোন-
নিজেকে বিশ্বাষ করুন । সত্যিকারের সফলতা অর্জনের একমাত্র উপায় হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে সততার সাথে নিজেকে প্রকাশ করা। যে কোন পরিস্থিতিতে নিজে সততা নিয়ে চলুন।
একদিন দেখবেন আপনি একজন সফল ব্যক্তিত্ব।
সৌজন্যে: ভেষজ বাড়ি